মোহাম্মদ ইকবাল হাসান সরকারঃ
নির্ধারিত সময়ে নবায়ন ফি না দেয়ায় শেয়ারবাজারে এক মাস ২০ দিনে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।এই তালিকায় বিভিন্ন কোম্পানির ৫০টি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) ৯ হাজার ৪১২ অ্যাকাউন্ট রয়েছে।লেট ফি দিয়েও এসব অ্যাকাউন্ট আর চালু করা যাবে না।বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের পাঠানো তালিকার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি বাংলাদেশ লিমিটেড)।নবায়নের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন।তবে ব্রোকারেজ হাউসগুলো জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে নিষ্ক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধের তালিকা পাঠানো শুরু করে।আর সর্বশেষ হিসাবে দেশের শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৪৭৮টি। সিডিবিএল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারের স্বচ্ছতায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রাইভেট ডিটেকটিভকে বলেন, বিনিয়োগ কারীদের অমনিবাস অ্যাকাউন্ট (বিশেষ অ্যাকাউন্ট) বন্ধ হয়েছে।এখন বাজারে স্বচ্ছতা আনতে হলে বিও অ্যাকাউন্টে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।এক্ষেত্রে কেউ বিদ্যমান আইন পরিপালনে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।সূত্র জানায়, বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করতে ৪৫০ টাকা লাগে।এর মধ্যে সিডিবিএল ১০০ টাকা, হিসাব পরিচালনাকারী ব্রোকারেজ হাউস ১০০ টাকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন (বিএসইসি) ৫০ টাকা এবং বিএসইসির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ২০০ টাকা জমা হয়।জানা যায়, প্রতিবছর ৩০ জুনের মধ্যে এই ফি সিডিবিএলে জমা দিতে হয়।এ বছর ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের সক্রিয়তা বিবেচনা করে বছরের বিভিন্ন সময়ে অ্যাকাউন্ট বাতিল করে।আর নবায়ন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জুনে বেশির ভাগ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়।৩১ মে শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৭৮ হাজার ৩৪২টি। বর্তমানে ২৪ লাখ ৩০ হাজার ১২৭টিতে নেমে এসেছে।এর মাধ্যমে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৪টি বিও বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে ২৪ লাখ অ্যাকাউন্টের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারী ২২ লাখ ৫৫ হাজার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ১ লাখ ৩১ হাজার এবং বিভিন্ন কোম্পানির ১৩ হাজার ২৮৭টি।তবে সিডিবিএল সূত্র বলছে, ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হলেও অলিখিতভাবে আরও কিছুদিন সময় রয়েছে।কিছু হাউস এখনও তালিকা পাঠানো অব্যাহত রেখেছে। ফলে অ্যাকাউন্ট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়বে।গত বছর এ প্রক্রিয়ায় তারা ২ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট বাতিল করেছিল।একবার বন্ধ হলে ওই অ্যাকাউন্ট আর চালু হয় না।সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা ২০০৩ এর তফসিল-৪ অনুযায়ী, বিও হিসাব পরিচালনার জন্য ডিপজিটরি অংশগ্রহণ কারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাবরক্ষণ ফি দিয়ে হিসাব নবায়ন করতে হয়।এর আগে পঞ্জিকাবর্ষ হিসাবে প্রতিবছর ডিসেম্বরে এই ফি জমা নেয়া হতো।তবে ২০১০ সালের জুনে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি প্রদানের সময় জুন মাস নির্ধারণ করে।সূত্র জানায়, আগে পুঁজিবাজারে আইপিও আবেদনের জন্য নামে-বেনামে প্রচুর বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হতো।একই ব্যক্তি এক থেকে দেড়শ’ পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। আর এসব বিওতে শুধু আইপিও আবেদন করা হয়।২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ।কিন্তু ২০১০ সাল শেষে তা ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর এই প্রবণতা রোধে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়।এছাড়াও বিও অ্যাকাউন্টে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সার্টিফিকেট দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা আনতে গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) ফরম পূরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু বাজার সংশ্লিষ্টদের চাপে শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৫ জুলাই ২০২০/ইকবাল